- by Editor
- Jan, 05, 2025 10:11
আব্দুল আউয়াল, ফকিরহাট (বাগেরহাট)ঃ বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাহিরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনঝুঁকি নিয়ে পাঠগ্রহণ করছে। ১৩২ বছরের পুরনো এই বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ভবনই এখন জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। পলেস্তারা খসে পড়ছে, ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি, কোথাও রড ঝুলে আছে খালি চোখে। তবুও বিকল্প না থাকায় চলেছে পাঠদান।
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯৩ সালে। এক সময়ের গৌরবময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আজ করুণ দশা। পাঁচটি ভবনের মধ্যে চারটিকেই দীর্ঘদিন আগে ফায়ার সার্ভিস ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। নেই মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, আধুনিক বিজ্ঞানাগার, নামাজের নির্ধারিত স্থান কিংবা মেয়েদের কমনরুম। অফিস সহকারীর পদ শূন্য থাকায় শিক্ষকরা ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও সামলাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি কক্ষে দেয়ালে বড় বড় ফাটল। ছাদ ও বিম থেকে রড বেরিয়ে এসেছে এবং রডে জং ধরে ঝুলে আছে। বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে, ভিজে যায় বই-খাতা। শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে মেঝেতে বসে পাঠ নেয়।
শিক্ষার্থীরা বলছে—ভয়, ধুলো আর পানি আমাদের নিত্যসঙ্গী
শ্রেণিকক্ষে বসেই আতঙ্ক অনুভব করে শিক্ষার্থীরা। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফা জানায়, “প্রতিদিন ভয় নিয়ে ক্লাস করি। অনেক সময় মাথার ওপর থেকে পলেস্তারা খুলে পড়ে।” আরেক শিক্ষার্থী সাকিব জানায়, “বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে, বই-খাতা ভিজে যায়। পড়াশোনায় মন বসে না। আমরা চাই নতুন ভবন।”
প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির অসহায়ত্বের কথা
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ শেখ বলেন, “আমি নিজেও এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। বহুবার আবেদন করেও কোনো বরাদ্দ পাইনি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে—এটা খুবই দুঃখজনক।”
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ ফরহাদ হোসেন জানান, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কাজ শুরু করেছি। অচিরেই অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেব।”
ইউএনও’র হস্তক্ষেপ ও আশ্বাস
ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, “বিদ্যালয়টি আমি নিজে পরিদর্শন করেছি। ভবনগুলোর অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশাকরি দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সময় এখন নিরাপদ ভবনের দাবি তোলার
বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য আজ ভেঙে পড়া দেয়ালের নিচে চাপা পড়ছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন—“ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি টেকসই ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ হোক।”