- by Editor
- Aug, 09, 2025 11:47
বিশেষ প্রতিবেদন: রূপসার আকাশে আজও ভেসে বেড়ায় এক সজ্জন, মানবিক ও ন্যায়পরায়ণ মানুষের স্মৃতি। মরহুম প্রফেসর আব্দুর রশিদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ১৬ এপ্রিল যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে স্মৃতির পাতায় ফিরে যাওয়ার এক আবেগঘন উপলক্ষ।
প্রফেসর আব্দুর রশিদ—একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সততা, দায়িত্ববোধ আর মানুষের জন্য নিরলস কাজ করার অঙ্গীকার। তিনি শুধু একজন শিক্ষক বা সংগঠকই ছিলেন না; ছিলেন সমাজের একজন অভিভাবকতুল্য ব্যক্তি। রূপসা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজও সকলের কাছে অনুকরণীয়।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টি.এস.বি ইউনিয়নের দবিরুদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে পবিত্র কোরআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়, অংশ নেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসী।
তবে আমার কাছে প্রফেসর আব্দুর রশিদ শুধু একজন সমাজসেবক নন, ছিলেন একজন স্নেহময় অভিভাবক। রূপসা প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সঙ্গে আমার বহুবার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে তিনি আমাকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাতেন। তাঁর সেই ডাকার ভঙ্গি, আন্তরিকতা আর স্নেহ আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে।
তিনি সব সময় তরুণদের উৎসাহ দিতেন, ভালো কাজের প্রশংসা করতেন এবং ভুল হলে মমতা দিয়ে সংশোধনের পথ দেখাতেন। তাঁর মতো মানুষের সান্নিধ্যে আসা ছিল এক ধরনের প্রাপ্তি, যা আজও আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, তাঁর কাজ এবং তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো রূপসার মানুষের হৃদয়ে চিরজাগরুক। এমন মানুষ কখনো হারিয়ে যান না—তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের কর্মে, তাঁদের আদর্শে এবং তাঁদের স্পর্শে গড়া মানুষের মাঝে।
মরহুম প্রফেসর আব্দুর রশিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন—এই প্রার্থনাই রইলো।