- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খুলনার লবণচরা থানাধীন দরবেশ মোল্লার গলিতে ঘটে যাওয়া নৃশংস ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন শামীম আহমেদকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে তাকে লবণচরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তার শামীম রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামের বাসিন্দা রুস্তুম শেখের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্স যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার প্রস্তুতির সময় শামীমের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিমানবন্দর পুলিশ তাকে আটক করে। পরে পরিচয় যাচাই ও তথ্য মিলিয়ে দেখা যায় যে তিনি খুলনার আলোচিত ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন।
সকালে হস্তান্তরের পর দুপুরে শামীমকে লবণচরা থানায় আনা হয়। তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সঙ্গে তিনি কতটা জড়িত—এমন বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, পরিকল্পনা ও সম্পৃক্ততার স্তর যাচাই করতে তদন্ত তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এ মামলার অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
১৬ নভেম্বর রাত সাড়ে সাতটার দিকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দরবেশ মোল্লা গলিতে একটি বাসায় নানিসহ দুই নাতি — মহিদুন্নেসা (৫৫), মুস্তাকিম (৮) ও ফাতিহা (৬) — কে বর্বর হত্যার পর, লাশ মুরগির খামারের মধ্যেই পাওয়া যায়। পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, হত্যার পেছনে ভূমি-দখল সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তাঁদের ঘরসহ মাটি ও দখল সংক্রান্ত একটা বিরোধ — অভিযোগ অনুরোধ আদালতে অবস্থান করছিল।
পুলিশ দায়ের করা হত্যা মামলায়, শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে তারা এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল। অভিযুক্ত যুবকের নাম তরিকুল ইসলাম। তাকে লবণচরা থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়; তবে রিমান্ড শুনানি এখনও হয়নি, তাই তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ওসি লবণচরা (কেএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তরিকুল ইসলাম “গুরুতর তথ্য” দিয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেই তথ্য “গোপন রাখা” হয়েছে এবং বিশ্লেষণ শেষে প্রমাণ মিললে পুলিশ পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা — এটি একটি “পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড”। কারণ, বাড়ির দরজা–জানালা বন্ধ ছিল; এবং বাড়ির মুরগির খামারের ভেতরেই লাশ পাওয়া গেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে খুনিরা পূর্বপরিকল্পনায় ঘুমিয়ে ছিল বা শ্যাশন পরিকল্পনা করেছিল।
পারিবারিক অভিযোগ এবং হত্যার সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনাটির পেছনে রয়েছে “জমি-দখলের চেষ্টা”। নানিমা মহিদুন্নেসা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে কিছু নথিপত্র জাল করা হয়েছে বলে পরিবার এবং এক মামা-শ্বশুর পরিবারকে অভিযোগ করা হয়েছিল। এই বিরোধ নিয়েই, পারিবারিক শত্রুতা থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে পরিবারের দাবি।
প্রাথমিক ভাবে, পুলিশ ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তারি অভিযান চালাতে পারে এবং যদি প্রয়োজন হয় — ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও নামানো হবে মামলায়।
অভিযোগ রয়েছে একই এলাকার
মোফাজ্জেল হোসেনের পুত্র মল্লিক আওছাফুর রহামান ওরফে নাহিদ মল্লিকের দেড় কোটি টাকা
মূল্যের জমি জাল দলিল করে জবরদখল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল গ্রেফতার ভূমিদস্যু শামীম
শেখ।
উল্লেখ্য এর আগে ২০২৩ সালের ১৯
জুলাই মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান পিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, খুলনার দিক নির্দেশনায় মোঃ শাহিন, অফিসার ইনচার্জ, রূপসা থানা, খুলনার নেতৃত্বে এসআই(নিঃ)/নকিব ইকবাল হোসেন, ইনচার্জ আইচগাতী পুলিশ ক্যাম্প, রূপসা থানা, খুলনা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপসা থানাধীন ১নং আইচগাতী ইউনিয়নের আইচগাতী গ্রামস্থ ইউপি সদস্য কাওছার মল্লিক ওরফে সোহেল এর বাড়ীর পাশে ইটের সোলিং রাস্তার উপর হইতে আসামী মোঃ শামীম শেখ (৪০), পিতা- মোঃ রুস্তুম শেখ, মাতা মোসাঃ শিরিনা বেগম, গ্রাম-দেয়াড়া, থানা-রূপসা, জেলা-খুলনা এর পরিহিত জিন্স প্যান্টের সামনের ডান পাশে গোজা অবস্থায় ক) ০১ (এক) টি ওয়ান শুটার গান, খ) ০৩ (তিন) রাউন্ড ৮ এমএম রাইফেলের কার্তুজ ইং ১৯/০৭/২০২৩ তারিখ রাত্র ২২:২৫ ঘটিকার সময় উদ্ধার পূর্বক জব্দ করেন। আসামীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে
সোপর্দ করা হয়েছিল।
সে ত্রিপল হত্যা মামলায় গ্রেফতার
হতে পারে আশংকা করে ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করেছিল।সেখান থেকে
তাকে গ্রেফতার করে খুলনার লবন চোরা থানায় পাঠানো হয়েছে।