- by Editor
- Jan, 03, 2025 07:14
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাণকেন্দ্র সুন্দরবনকে রক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিথিন বন্ধের কোনো বিকল্প নেই, বলেছেন প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, “পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক শুধু গাছপালা নয়, জলের ও ডাঙ্গার প্রাণীকেও ধ্বংস করছে। মাছের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।”
তিনি বৃহস্পতিবার খুলনা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত "সুন্দরবন সুরক্ষায় যুব সম্মেলন"-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে সুন্দরবন প্রভাবিত খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার ১৭টি উপজেলার চার শতাধিক তরুণ অংশগ্রহণ করেন। এদের মধ্যে অনেকে স্থানীয়ভাবে “ইয়ুথ ফর দি সুন্দরবন” প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন।
প্রধান বন সংরক্ষক জানান, এসব স্বেচ্ছাসেবীদের সরকারি স্বীকৃতির আওতায় আনতে তিনি খুলনার বন সংরক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন।
তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে জেলা-উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি প্রদর্শন করা হয়। জেলা পর্যায়ে সেরা স্টল: বাগেরহাট উপজেলা পর্যায়ে সেরা স্টল: নেছারাবাদ, পাথরঘাটা, আশাশুনি। সুন্দরবন সুরক্ষায় সেরা নীতি প্রণয়ন ফোরাম: মঠবাড়িয়া, কয়রা, কালিগঞ্জ।
সম্মেলনের শেষ পর্বে সুন্দরবন সুরক্ষায় ১৭ দফা সম্বলিত “খুলনা ঘোষণা” সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। এটি উপস্থাপন করেন কর্ণ বিকাশ কেডি ও লাবনী আক্তার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: স্বপন কুমার গুহ, নির্বাহী পরিচালক, রূপান্তর, বিতান কুমার মণ্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), খুলনা
শাহরিয়ার মান্নান, হেলভেটাস বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম ইমরান আহমেদ, বন সংরক্ষক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান, প্রফেসর, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (উদ্দীপনা সেশন পরিচালনাকারী)
এছাড়া সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের ডিএফও, সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরাও সম্মেলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
রূপান্তর-এর এই প্রকল্পটি জার্মান সরকারের সহযোগিতায় ২০২৪ সালের জুন থেকে শুরু হয় এবং চলবে ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। উদ্দেশ্য—সুন্দরবনের সংলগ্ন এলাকার দূষণ হ্রাস ও বাস্তুসংস্থান উন্নয়ন।
এই সম্মেলনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছেছে—সুন্দরবন বাঁচাতে হলে পলিথিন, প্লাস্টিক বন্ধ করতে হবে, এবং যুব সমাজকে সামনে আনতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।