- by Editor
- Jan, 03, 2025 07:14
খুলনা চিত্র ডেস্ক: খুলনা অঞ্চলের নদ–নদী এখন আতঙ্কের আরেক নাম। গত দেড় বছরে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭০টিরও বেশি অজ্ঞাত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। রহস্যজনক এসব মৃত্যুর তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
নৌ-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ৪৫ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও ২৭ জনের পরিচয় এখনও অজানা। ২০২৫ সালে নদীঘটিত ৯টি হত্যা মামলার একটিরও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা পড়েনি।
পরিসংখ্যান বলছে, উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর ৪০ শতাংশ রূপসা নদী থেকে, ৩০ শতাংশ ভৈরব নদ থেকে, ২০ শতাংশ পশুর নদ থেকে এবং বাকি ১০ শতাংশ অন্যান্য নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ১১ জন শিশু।
এ সময়ের মধ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডও আলোচনায় আসে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় থেকে খুলনায় এসে নিখোঁজ হন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাজকির আহমেদ। সাত দিন পর ভৈরব নদ থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে উঠে আসে—প্রেমিকার প্রাক্তন স্বামী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়।
আরেক ঘটনায়, গত ৭ জুন নিখোঁজ হন রূপসার আহাদ শেখ। দুই দিন পর আঠারোবেকী নদীতে উদ্ধার হয় এক মরদেহ। পুলিশ দাবি করে সেটি আহাদেরই, তবে ডিএনএ পরীক্ষার জটিলতায় চার মাস পার হলেও মরদেহটি এখনো পরিবারের কাছে হস্তান্তর হয়নি।
আইনবিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর আইন প্রয়োগের অভাব এবং অপরাধীদের দুঃসাহস বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে।
মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, “নৌ-পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
খুলনা নৌ–পুলিশ সুপার ডা. মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “দীর্ঘ নদী সীমানা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অপরাধীরা অনেক সময় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। তবে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নদীঘটিত অপরাধ দমনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”