- by Editor
- Jan, 02, 2025 18:05
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার সময় দুই যুবক দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে একজনের গায়ে ছিল কালো রঙের টি-শার্ট, আর অন্যজনের গায়ে ছিল গোলাপী রঙের টি-শার্ট।
তবে ফুটেজটি বেশ অস্পষ্ট হওয়ায় ওই দুই যুবকের মুখ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্যান্য ভবনের অতিরিক্ত সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এর আগে, রোববার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার আরমানিটোলার পানির পাম্প গলির একটি বাসার সিঁড়ি থেকে জুবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুবায়েদ নিয়মিত ওই বাসায় টিউশনি করাতেন, এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
জুবায়েদ হোসাইন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি রফিকুল ইসলাম) জানান, “আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে কে বা কারা এতে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে চলছে।”
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও (ডিবি) এ ঘটনার তদন্তে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোক ও ক্ষোভ নেমে এসেছে সহপাঠী ও ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
জুবায়েদের সহপাঠীদের ভাষায়, “সে ছিল পরিশ্রমী ও ভদ্র স্বভাবের ছাত্র। কারও সঙ্গে তার বিরোধ ছিল বলে আমরা জানি না।”
ঘটনাটি এখন রাজধানীর আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে, এবং পুলিশ বলছে, “খুব শিগগিরই হত্যার মোটিভ ও জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।”