- by Editor
- Jan, 10, 2025 14:53
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, কিছু মিডিয়াকর্মী হাসপাতালের ভেতরে রোগীদের ছবি তুলে জনসমক্ষে প্রকাশ করছেন; এতে রোগী-চিকিৎসক উভয়েই হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং স্বাভাবিক চিকিৎসাপ্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। তাই পরিচালকের অনুমতি ছাড়া ইনডোর ও আউটডোর—দুই স্থানে সংবাদ সংগ্রহ বা ছবি/ভিডিও নেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম বলেন, “সাংবিধানিকভাবে সংবাদ সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ; তবু হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় এবং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা এমন নিয়ম নিলাম। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য মেডিকেলে এ ধরনের সীমাবদ্ধতা ছড়িয়ে আছে; সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সব চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেছি।”
অন্যদিকে এই নিষেধাজ্ঞাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে নন্দিত করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। খুলনা প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল বাংলা নিউজকে বলেন, “সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা পাচ্ছেন — এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের নামান্তর। আমরা খুমেক পরিচালকের অপসারণ দাবি করছি।”
ঘটনার নেপথ্যে সরাসরি অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক বশির হোসেন। তিনি সম্প্রতি হাসপাতালের কয়েকটি অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন; বিশেষত ‘বকশিশ না পেয়ে ক্লিনার খুলে নিলো অক্সিজেন, রোগীর মৃত্যু’ ও ‘খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে লাশ নিয়ে রমরমা কারবার’ শিরোনামের প্রতিবেদনগুলোতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। বশির দাবি করেছেন, হাসপাতালের ইনভেন্টরি থেকে ১৫ থেকে ২০ আইটেম ওষুধ হঠাৎ করে গায়েব হয়েছে — যার মূল্য লাখ টাকারও বেশি হতে পারে — এবং টেকনিশিয়ান/ফার্মাসিস্ট আশোক বাবু ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সিস্টারদের যোগসাজশে পরবর্তী সময়ে হিসাব মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেছেন, এ সংক্রান্ত প্রমাণ হাতে আছে এবং কেউ চাইলে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
ঐ পোস্টে বশির হোসেন লিখেছেন যে, “ওষুধের হিসাব মেলাতে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে” — এবং তিনি আগামী দিনগুলোতে আরও ঘটনাবলির ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা জানিয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে রোগী-পরিবার, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় মানবাধিকার ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বচ্ছ তদন্ত না করে সাংবাদিক প্রবেশ বন্ধ করা হলে অপপ্রচারের সুযোগ বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত দুর্নীতি দুর্গম হয়ে পড়তে পারে। তারা প্রয়োজনীয় steps হিসাবে স্বাধীনভাবে তদন্ত করা, নজরদারি মেকানিজম জোরদার করা এবং সরকারিভাবে তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করাকে গুরুত্বারোপ করেছেন।
উল্লেখ্য, হাসপাতালের ভেতরে ওষুধের অপ্রত্যাশিত ক্ষতি ও সেটি নিয়ে তোলা রিপোর্টিংয়ের প্রেক্ষিতে খুমেক কর্তৃপক্ষ জরুরি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ এই সিদ্ধান্তকে গণমাধ্যের স্বাধীনতা হরণের মতো অভিহিত করে নিয়মটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তও দাবি করেছে।