- by Editor
- Jan, 15, 2025 07:21
বিশেষ প্রতিনিধি: ঘুষ না দেওয়ার অভিযোগে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার পেনশন ও আনুতোষিক ১২ মাস ধরে বন্ধ রেখে ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী মীর জাকির হোসেন (অব.), উচ্চমান সহকারী, উপজেলা কৃষি অফিস, মোংলা, বাগেরহাট। তিনি সম্প্রতি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (বাংলাদেশ), হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অবসর ও লাম্পগ্রান্টের অনুমোদন সত্ত্বেও পেনশন আটকে রাখার অভিযোগ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা কর্তৃক ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে তাকে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবসর-উত্তর ছুটি মঞ্জুর করা হয়। পরে তার চাকুরীবহি যাচাই শেষে ইএলপিসি (ELPC) ও লাম্পগ্রান্ট অনুমোদন ও পরিশোধ করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি তার অবসর ভাতা ও আনুতোষিক আনুষ্ঠানিকভাবে মঞ্জুর হলেও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, মোংলা তা গ্রহণ করেও এখন পর্যন্ত পেনশন ও আনুতোষিক প্রদান করেনি।
পেনশন নিষ্পত্তির বিনিময়ে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মো. তাজুল ইসলাম ও অডিটর মিঠুন মন্ডল পেনশন কেস নিষ্পত্তির জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ৩ লাখ ৩ হাজার ৯৪৫ টাকার ‘ওভারড্রন’ দেখিয়ে একটি স্বাক্ষরবিহীন বিবরণী প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, উক্ত ওভারড্রন বিবরণী ঘুষ দাবির একটি বাস্তব প্রমাণ।
একই তারিখ ও স্মারকে দুইটি আপত্তিপত্র: রহস্য ও হয়রানির অভিযোগ
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একই স্মারক নম্বর ও তারিখে দুটি ভিন্ন আপত্তিপত্র জারি করা হয়, যেখানে আপত্তির বিষয়ও ভিন্ন। কোনটি কার্যকর তা স্পষ্ট করা হয়নি। এক মাস ১৫ দিন পেনশন কেস দপ্তরে আটকে রেখে পরে ডাকযোগে পাঠানো হয়—যা হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
আইন অমান্য করে ১২ মাসেও পেনশন নিষ্পত্তি হয়নি
পেনশন অধিকতর সহজিকরণ আইন অনুযায়ী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে পেনশন নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও অভিযোগকারী জানান, ১২ মাস পেরিয়ে গেলেও তার পেনশন ও আনুতোষিক নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে তিনি চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
একই পদে অন্যরা পেনশন পেলেও তিনি বঞ্চিত
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একই ধরনের পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি পাওয়া একাধিক কর্মকর্তা নির্বিঘ্নে পেনশন ও আনুতোষিক পেলেও শুধুমাত্র তার ক্ষেত্রেই আপত্তি তুলে পেনশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি
ভুক্তভোগী মীর জাকির হোসেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অবিলম্বে তার পেনশন ও আনুতোষিক প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি