আজকের তারিখ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ রাত | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপসায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুস্তাফিজের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক অভিযোগ, তদন্তের দাবি।


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খুলনার রূপসায় কাজদিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুশ্চরিত্রের অভিযোগ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান পিঠাভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।
তিনি বর্তমানে কাজদিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে শিক্ষকতা করছেন।

অল্প কিছুদিন আগে মাস্টারের স্ত্রী খাদিজা বেগম দুশ্চরিত্র স্বামীকে ভালো পথে, ফেরাতে না পেরে তৎকালীন শিক্ষা অফিসার আঃ রব সাহেবের নিকট
মাস্টারের বিরুদ্ধে নারি কেলেঙ্কারি সহ তার আপন মামি বেবী বেগমের সাথে অবৈধ সম্পর্কের একটি অভিযোগ করেছিলন।

শিক্ষা অফিসার আঃ রব বিষয়টি আমলে নিয়ে মাস্টারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে গেলে,মাস্টার সুকৌশলে তার প্রতিবেশী তখনকার কাজদিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করেন।

শেখ হাবিবুর রহমান শিক্ষা অফিসারের কাছ একটি মৌখিক মুছলেকা দিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বটি কিছু শর্তের বিনিময়ে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেন।
প্রথম শর্তটি ছিল মাস্টার কোনভাবে তার মামীর সাথে সম্পর্ক রাখতে পারবেন না।
এবং দ্বিতীয় শর্ত মাস্টার তার স্ত্রী খাদিজা বেগম বাড়িতে না থাকাকালীন,ছাত্রীদের বাড়িতে এনে পড়াতে পারবেন না। মাস্টার সব শর্তে রাজি হয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছিলেন।

কথায় আছে চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী,মাস্টার আবার নতুন করে তার মামীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক শুরু করেন। এর ফলে মাস্টারের সাথে তার স্ত্রীর নতুন করে দাম্পত্য অশান্তি শুরু হয়।

এক পর্যায়ে মামি বেবী বেগমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি চরম পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়। মাস্টারের স্ত্রী খাদিজা বেগম প্রতিদিন একই বিষয়ে সংসারে অশান্তি হওয়ার কারণে তার ছোট মেয়েকে নিয়ে খুলনায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন।
এখন মাস্টারের পরিবারের স্ত্রী নামের ঝামেলাটি না থাকায়। মাস্টার নিজ বাড়িতে পড়ানো বাদ দিয়ে কাজদিয়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের পড়ানো আরম্ভ করেন। সম্প্রতি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলে মাস্টারের মেঘনা চাইতে বৃষ্টি নেমে আসে। মাস্টার বাড়ি ফাঁকা পেয়ে তার পূর্বের কথা চিন্তা না করেই ছাত্রীদেরকে বাড়িতে এনে পড়ানো শুরু করেছেন।

বিষয়টি শেখ হাবিবুর রহমানের নজরে আসে। সে প্রথমেই মাস্টারের নিকট গিয়ে জানান তার স্ত্রী বাড়িতে না থাকলে সে যেনো বড়িতে ছাত্রীদের না পড়ান ।
এ কথা বলতেই মাস্টারের স্বার্থে আঘাত লাগে,এবং মাস্টার হাবিবুর রহমানের উপর ক্ষিপ্ত হন।

সে মাস্টরের সাথে তর্কে না জড়িয়ে, কমলমতি ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিষয়টি সমাধানের জন্য শিক্ষা অফিসে একটি মৌখিক অভিযোগ করেন।অভিযোগে তিনি বলেন মাস্টারের স্ত্রী বাড়িতে না থাকলে মাস্টার যেন ছাত্রীদের বাড়িতে এনে না পড়ান।
বিষয়টি এখানে থেমে যায় না। অভিযোগের বিষয়টা খতিয়ে দেখার জন্য,আমাদের অনুসন্ধানী টিম সত্য ঘটনা উদঘাটনের জন্য সরোজমিনে
বের হন। তারা প্রথমেই যোগাযোগ করেন অভিযোগকারী সেখ হাবিবুর রহমানের সাথে। তারপর ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।

আমাদের টিম উপজেলাতে ঢুকতেই সাক্ষাৎ হয় , রূপসা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার শিবলীর সাথে। তিনি আমাদের জানান, মাস্টারের স্ত্রী শিক্ষা অফিসে এসে মাস্টারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি করেছিলেন সে সময় তিনি ওখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি সত্য।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অতি গুরুত্বের সাথে অভিযোগটি শুনেছিলেন।
তার স্ত্রী বারবার বলছিলেন মুস্তাফিজ মাস্টার তার মামী সহ তারকাছে পড়তে আসা বিভিন্ন ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর কথা। আমাদের টিম ঘটনাটির আরও সত্যতা যাচাই করার জন্য তৎকালীন মুস্তাফিজ মাস্টারের প্রধান শিক্ষিকা সুমাধুরি চক্রবর্তীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে জানতে পারেন।

মাস্টারের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর অভিযোগের ঘটনা সত্য। আমাদের টিম ঘটনার আরো গভীরে তলিয়ে দেখার জন্য প্রধান শিক্ষিকার মোবাইলের সব কথা রেকর্ড করে রাখেন।তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারী আমাদের টিম কে জানান। তখন থেকে তিনি আজ অব্দি এই দপ্তরে চাকরি করছেন ।
মোস্তাফিজ মাস্টারের স্ত্রী মুস্তাফিজ মাস্টারের বিরুদ্ধে যে চরিত্রহীনতার অভিযোগ দিয়েছিলেন সেই ঘটনাটি সত্য।কারণ ওখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন।সংবাদের খাতিরে আমাদের টিম ওই কর্মচারীর বক্তব্য তার অগোচরে রেকর্ড করে ফেলেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে,তিনি জানান ওই সময় তিনি এখানে দায়িত্বে ছিলেন না। তাই এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।তবে শিক্ষা অফিসার বিষয়টি অতি গুরুত্ব সাথে শুনে একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করেন। সেই সাথে মোস্তাফিজ মাস্টারকে বাড়িতে ছাত্রী এনে পড়াতে নিষেধ করেন।

এতে করে মাস্টার নিজ স্বার্থে আঘাতের কারণে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন , শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এক অশুভ শক্তির ছায়ায়
নিজেকে নির্দোষ দেখানোর জন্য শেখ হাবিবুর রহমান সহ আরো তিনজন নির্দোষ মানুষকে জড়িয়ে ফৌঃকাঃবিঃ ১০৭/১১৭ ধারায় একটি মামলা করেন।

শেখ হাবিবুর রহমান জানতে পারেন মুস্তাফিজ মাস্টার হাবিবুর রহমান সহ আরো তিন জনের নামে একটি মামলা খাড়া করেছেন।
তখন শেখ হাবিবুর রহমান এই বিষয়টির উপর সত্য ঘটনা উদঘাটনের জন্য পরবর্তীতে শিক্ষা অফিসারের নিকট একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।
খাদিজা বেগম তার লেবাসধারী স্বামীর অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার কারণে, নিরবে সব ব্যথা বুকে নিয়ে বর্তমানে খুলনা শহরে তার ছোট মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন বলে এলাকার সুত্রে জানা যায়।

এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে । তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

author

Editor

রূপসায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুস্তাফিজের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক অভিযোগ, তদন্তের দাবি।

Please Login to comment in the post!
adds

you may also like