- by Editor
- Jan, 15, 2025 07:21
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খুলনার রূপসাঘাটে মাঝিদের অনিয়ম ও দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কেউ এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে মাঝিরা তাদের উপর চড়াও হয়, গালিগালাজ ও মারধর পর্যন্ত করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঝি ইউনিয়নের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের ঘাটের সদস্যপদ দিচ্ছে। একজন মাঝি প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা আয় করে। কিন্তু যাত্রী সেবার মান একেবারেই শোচনীয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যাত্রীদের নিকট থেকে চার টাকা ভাড়া নিলেও ফিরতি টাকা দেওয়া হয় না। এতে করে প্রায় প্রতিদিনই মাঝি-যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ঘটে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মাঝিদের দুর্ব্যবহার আরও বেড়ে যায়, যাত্রীদের জন্য পারাপার হয়ে ওঠে আতঙ্কের বিষয়।
অন্যদিকে, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের গ্যাংওয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারযোগ্য নয়। সংস্কারের অভাবে এগুলোতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না।
মাঝি ইউনিয়নের সভাপতি হালিম চৌকিদার ও সাধারণ সম্পাদক হারেজ শেখের নেতৃত্বে ঘাট থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ঘাট ইজারার নামে একটি গোষ্ঠী এক টাকার স্থলে দুই টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করছে। শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও ট্রলারে অধিকাংশ্যই শিশুশ্রম ব্যবহার হচ্ছে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে প্রত্যেক মাঝির গলায় যেনো একটি করে আইডি কার্ড ঝুলানো থাকে। নদীর উভয় পাড়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি করে অভিযোগ বক্স ঝুলাতে হবে। যাতে করে যাত্রীরা তাদের অভিযোগ জানাতে পারে।
এদিকে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, খুলনা জেলা পরিষদ ও বিআইডব্লিউটিএ’র মধ্যে ঘাটের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলায় গ্যাংওয়ের সংস্কার কাজও সম্পন্ন হচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।