- by Editor
- Jan, 15, 2025 07:21
নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার রূপসা সেতুর পূর্ব পাড় সংলগ্ন সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ বালুর দুধর্ষ ব্যবসা। সড়ক বিভাগের রাস্তা কেটে পাইপ বসিয়ে রূপসা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে; মেইন সড়কের দু–পাশজুড়ে রাখা হচ্ছে বালুর স্তুপ। এতে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি, পথচারীদের চরম দুর্ভোগ এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ। অথচ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো রীতিমতো নীরব ভূমিকা পালন করছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, খাজুরা এলাকার সাগর শেখ, ও জাবুসা এলাকার মেহেদী হাসান ও শামিম—এই তিন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, সড়ক ও জনপদের (সওজ) রাস্তা কেটে নদী থেকে বালু তোলার পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। বালু পরিবহনে প্রতিদিন চলাচল করছে ভারী ট্রাক, পিকআপসহ নানা যানবাহন। এ কারণে যানজটের পাশাপাশি ধুলাবালুর দূষণে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন পথচারী, দোকানি ও সেতুতে বেড়াতে আসা মানুষজন।
ব্রীজের টোল প্লাজার লোকজন জানান, যানবাহন ওঠানামার সময় বালুর কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। খাবারের দোকান মালিকরাও জানান, বাতাসে উড়ে খাবারের সঙ্গে বালু মিশে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগে বালু ব্যবসায়ী সাগর শেখ দীর্ঘদিন ধরে এ বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। ৫ আগস্টের আগে ও পরে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ব্যবসা বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
এক বছর আগে সরকারি রাস্তার পাশ দখল করার অভিযোগে পুলিশ ব্যবসায়ী শামিমকে আটক করলেও তিনি ‘উচ্চ পর্যায়ের ফোন’ পাওয়ার পর ছাড়া পেয়ে যান বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
সেতুতে বেড়াতে এসে পথচারী শিহাব, মুনির, দেলোয়ার ও ফাহিম বলেন—
“এভাবে সড়কের পাশে বালুর স্তুপ রাখা সম্পূর্ণ অবৈধ। যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে, ধুলাবালিতে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
ডা. মো. মাজেদুল হক কাওসার বলেন,
“ধুলাবালি নাক ও মুখে গেলে ব্রংকাইটিস, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, হাঁপানি এবং সাইনোসাইটিসের ঝুঁকি থাকে।”
বালু ব্যবসায়ী সাগর শেখ বলেন,
“আমি ৭ বছর ধরে ব্যবসা করছি। ট্রেড লাইসেন্স আছে। সরকারি রাস্তার জায়গা ছেড়ে মালিকানাভুক্ত জায়গায় বালু রাখি।”
তবে তিনি সড়ক বিভাগের রাস্তা কেটে পাইপ বসানোর বিষয়টি স্বীকার করেন।
তিনি আরও দাবি করেন—
“আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ব্যবসা করার অভিযোগ মিথ্যা। তবে শেখ সোহেলের লোকজন অতীতে আমার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছে—এটা সত্য।”
মেহেদী হাসান ও শামিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নৈহাটী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইলিয়াস শেখ বলেন,
“রাস্তার পাশে বালুর ব্যবসা সম্পূর্ণ অন্যায়। দুর্ঘটনা যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে। আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্ধ করা জরুরি।”
রূপসা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)
ইফতেখাইরুল ইসলাম শামিম বলেন,
“সরকারি রাস্তার পাশে বালুর ব্যবসা করা অন্যায়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী
মো. সাঈদ রহমান বলেন,
“মৌখিকভাবে বহুবার নিষেধ করেছি। তবুও তারা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত করে বালুর ব্যবসা চালাচ্ছে। এবার লিখিতভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রিক্তা ফোনে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং অফিসে এসে কথা বলতে বলেন।
রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে বালুর স্তুপ, পাইপলাইন স্থাপন এবং ক্ষমতার প্রভাবে বাণিজ্য চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগণ দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ ও স্থায়ী প্রতিকার চান। বালুর দখলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনপদের সড়ক, বেড়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা—যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।