- by Editor
- Jan, 02, 2025 18:05
নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের মনিরামপুরে ভ্যানচালক মিন্টু হোসেন (৪০) হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে মনিরামপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত মিন্টুর পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়। তারা মামলাকে পুঁজি করে বাণিজ্য করারও অভিযোগ তুলেছেন। গত ২৮ আগস্ট রাতে মনিরামপুর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে এক দোকানে মিন্টু ও তাঁর দুই ভাইয়ের সঙ্গে পৌর বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক (পরে বহিষ্কৃত) সাব্বির হোসেনসহ কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিন্টুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে গেলে দুই ভাইসহ আরও কয়েকজন মারধরের শিকার হন। গুরুতর অবস্থায় মিন্টুকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ আগস্ট রাতে তিনি মারা যান। ঘটনার পর নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে সাব্বির হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামি করে মনিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই রাতেই পুলিশ হাকোবা গ্রামের ফারুক হোসেন ও ছোট সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে। সংবাদ সম্মেলনে নিহত মিন্টুর ছেলে মো. আকাশ অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন ও তাঁর ছোট ভাই তুহিন হাসান নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু মামলাকে ভিন্নখাতে নিতে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ষড়যন্ত্রে নেমেছেন। আকাশ বলেন, তাঁর ছোট চাচা সেন্টুর শ্যালক সুমন হোসেন মঙ্গলবার কৌশলে তাঁকে যশোর আদালত এলাকায় নিয়ে গিয়ে সাদা কাগজে সই করিয়ে মানববন্ধনে দাঁড় করান। ওই মানববন্ধনে অচেনা কিছু লোককে এনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহত মিন্টুর মা জেসমিন খাতুন, দাদা আবদুল আজিজ, ছোট চাচা পিকুল, তাঁর স্ত্রী সীমা খাতুন ও ফুপাতো বোন তাছলিমা খাতুন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন বলেন, মিন্টু হত্যার ঘটনায় জড়িত পৌর বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক সাব্বির হোসেনকে ৩০ আগস্ট বহিষ্কার করা হয়েছে। মামলার তদন্তে পুলিশকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। মনিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান খান জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী এলাকা থেকে প্রধান আসামি সাব্বির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।