পরিত্যক্ত স্থানে গরু জবাই করার বেশ কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। এগুলোকে মূলত স্বাস্থ্যগত, পরিবেশগত ও সামাজিক দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়—
স্বাস্থ্যগত ক্ষতি
--------------
সংক্রামক রোগের ঝুঁকি – অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করলে গোশত জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া (যেমন ই-কোলাই, সালমোনেলা) বা ভাইরাস দ্বারা দূষিত হতে পারে। এতে ভোক্তার মধ্যে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগ ছড়ায়।
অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া – পরিত্যক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় স্যানিটারি ব্যবস্থা থাকে না। গোশতের সঙ্গে মাটি, ধুলো, পোকামাকড় বা নোংরা পানি মিশে যায়।
রক্ত ও বর্জ্যের দূষণ – সঠিকভাবে নিষ্পত্তি না হলে বর্জ্য ও রক্ত থেকে রোগজীবাণু জন্মে আশেপাশের মানুষ ও পশুর মধ্যে ছড়াতে পারে।
পরিবেশগত ক্ষতি
----------------
দুর্গন্ধ ও দূষণ – পরিত্যক্ত জায়গায় জবাইয়ের ফলে জমে থাকা রক্ত ও মাংসের টুকরো থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং পরিবেশ নষ্ট হয়।
পানি ও মাটির দূষণ – জবাইয়ের বর্জ্য নালা বা ড্রেন দিয়ে মিশে গেলে পানি দূষিত হয়, এতে আশেপাশের মানুষ ও প্রাণীর জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
পোকামাকড় ও প্রাণী আকৃষ্ট হওয়া – কুকুর, বিড়াল, কাকসহ বিভিন্ন প্রাণী ওই বর্জ্যের দিকে আকৃষ্ট হয়, যা রোগ বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ায়।
সামাজিক ও আইনগত দিক
--------------------
জনবিরোধী পরিস্থিতি – দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বর্জ্যের কারণে স্থানীয় মানুষ বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
আইন লঙ্ঘন – অধিকাংশ জায়গায় পশু জবাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট কসাইখানা থাকে। পরিত্যক্ত স্থানে জবাই করা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
ধর্মীয় ও সামাজিক অশান্তি – নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে জবাই হলে ধর্মীয় রীতিনীতি বা সামাজিক সংবেদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সঠিকভাবে পরিচালিত কসাইখানায় জবাই করলে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামাজিক সমস্যাগুলো এড়ানো যায়।
বিঃ দ্রঃ রূপসা ঘাট সংলগ্ন যেস্থানে মানুষ মল-মূত্র ত্যাগ করে সেইখানে গরু জবাই করলেও অজ্ঞাত কারনে প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে বলে অভিযোগ রয়েছে।