- by Editor
- Jan, 02, 2025 18:05
সোনালী ডেক্স: খুলনার রূপসার রাজাপুর গ্রামের পপুলার এলাকায় বি-কম্পানির দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছে।
গডফাদার গ্রেনেড বাবুর নেতৃত্বাধীন 'বি কোম্পানি' সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও মাদক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের একজন সাব্বির (২৭) ও অপরজন সাদ্দাম হোসেন (৩৫)। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ আহত যুবকের নাম মিরাজ ওরফে (কাউয়া মিরাজ)। সে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বি কোম্পানি এর প্রধান গ্রেনেড বাবুর প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
জানা যায়, নিহত সাব্বির ও সাদ্দাম দু’জনই সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। তারা বি-কম্পানির অন্যতম সদস্য ছিলেন। এরমধ্যে সাব্বিরের বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। নিহত সাদ্দাম খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার সোনার বাংলা গলির নুর ইসলামের ছেলে। গোলাগুলির সময় সাদ্দাম রাজাপুর গ্রামের পপুলার এলাকার বাসিন্দা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সোহাগের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাদ্দামকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে সাদ্দামের মৃত্যু হয়।
সদ্দামের স্বজনেরা জানান, পেশায় তিনি একজন থাই গ্লাসের কন্ট্রাক্টর। তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে কিংবা কোন গ্রুপের সাথে যুক্ত ছিলেন না। রাজাপুরে নিজের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন।
তবে রাজাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল আলম নিশ্চিত করেছেন, নিহত সাব্বির ও আহত সাদ্দাম উভয়েই খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর গ্রুপের সদস্য। সাব্বির এবং সাদ্দামসহ আরও অনেক যুবক ওই বাড়িতে অবস্থান করছিল। রাত ৯ টার দিকে ৫-৭ জন দুর্বৃত্তর সশস্ত্র অবস্থায় তাদের ওপর আক্রমণ করে। দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময়ে একটি গুলি সাব্বিরের মাথার পেছন থেকে ভেদ করে সামনের একটি চোখ থেকে বের হয়ে যায় এবং একটি গুলি সাদ্দামের মাথার পেছনে বিদ্ধ হয়।
এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে উপজেলার রাজাপুর গ্রামের পপুলার এলাকার বাসিন্দা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সোহাগের বাড়িতে গোলাগুলি হয়। দুর্বৃত্তের গুলিতে সাব্বিরের মৃত্যু হয় এবং সাদ্দামের মাথার পেছনে একটি গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাদ্দামকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয়রা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ওই বাড়ির মধ্যে সাব্বিরের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।
সুত্রে জানা যায়, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ‘বি কোম্পানি’ গ্রুপের প্রধান গ্রেনেড বাবুর প্রধান দুই সহযোগী কাউয়া মিরাজ এবং সাব্বির। আধিপত্য বিস্তার ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারনে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আসিক গ্রুপ ও সাজ্জাদ গ্রুপের ১০-১২ জন সদস্য এই হামলা চালায় বলে জানা গেছে। হামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী সোহাগের ঘর থেকে সাব্বিরের লাশ পাওয়া যায়। এসময় গুলিবিদ্ধ কাউয়া মিরাজ পালিয়ে খুলনার নার্গিস মেমোরিয়াল ক্লিনিকে যায়। সেখানে চিকিৎসকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চিকিৎসা নেয়। পরে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (২৭ জুন) ভোরে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘‘খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ‘বি কোম্পানি’ গ্রুপের প্রধান গ্রেনেড বাবুর প্রধান দুই সহযোগী কাউয়া মিরাজ এবং সাব্বির। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে রূপসা থানাধীন আইচঘাতী ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সোহাগের বাড়িতে গোলাগুলি করে। ঘটনাস্থলে সাব্বির মারা যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত কাওয়া মিরাজ খুলনার নার্গিস মেমোরিয়াল ক্লিনিকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চিকিৎসা নিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের অপর সহযোগী সাদ্দাম মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখান থেকে ঢাকায় রেফার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের পাশে ছয়টি খালি কার্টিজ, চারটি লাইভ কার্টিজ, কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। মরদেহের পাশে গ্রেনেড বোমা সদৃশ একটি বস্তু পাওয়া যায়।’