- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
সোনালী রিপোর্টঃ খুলনার তেরখাদা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরদার মোশাররফ হোসেনসহ ১০ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি করেছেন তেরখাদা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম মোস্তফা ভুট্টো।
বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তেরখাদা অঞ্চলে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক মো. নাজমুল কবির পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে তৎকালীন তেরখাদা থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর কবির, সেকেন্ড অফিসার আব্দুল কাইয়ুম, এসআই চঞ্চল কুমার হালদার, এসআই রুবেল, এসআই এনামুল, এসআই প্রতাপ, এসআই অলিফ ঘোষ, এসআই মো. শাহিন কাদির এবং এসআই বিশ্বজিৎ মিত্রকে। বর্তমানে ওসি সরদার মোশাররফ হোসেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্রাইম শাখায় কর্মরত রয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকার আমলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার এবং ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করতেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা। বাদীর দাবি, তিনি তেরখাদা যুবদলের নেতা হওয়ায় তার কাছেও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ২০ জুন তাকে ও আরও কয়েকজনকে থানায় ডেকে নিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় পরে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলুর ১১ বছর আগে মারা যাওয়া পিতাকেও একটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল। এছাড়াও ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই বাদীকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তাকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
বাদী গোলাম মোস্তফা ভুট্টো জানান, “তৎকালীন সময়ে মামলা করার সুযোগ ছিল না। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার আশা করি।”
বাদী পক্ষের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আদালত মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং দোষীদের বিচার হবে।
উল্লেখ্য ওসি সরদার মোশারফ হোসেন তেরখাদার আগে রূপসায় দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি সালাম মূর্শেদীর আস্থাভাজন ছিলেন। রূপসায় দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জমি দখল চাঁদাবাজী ও শালিস বিচারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসময় তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোন শাস্থি মূলক ব্যবস্থা না নিয়ে এমপি সালাম মূর্শেদীর টাকায় তাকে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ ওসির পুরুস্কার প্রদান করা হয়।