- by Editor
- Sep, 18, 2025 12:46
শাশুড়ির ১২ লাখ টাকার কিলারে খুন করে সালমান শাহকে!
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে সবচেয়ে রহস্যময় ও আলোচিত নাম চিত্রনায়ক সালমান শাহ। মাত্র ২৫ বছরের জীবনে তিনি জয় করেছিলেন কোটি দর্শকের হৃদয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর নিথর দেহ পাওয়া যায় ঢাকার ইস্কাটনের বাসায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই— সালমান শাহ কি আত্মহত্যা করেছিলেন, নাকি তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল?
দীর্ঘ ২৯ বছর পর সেই প্রশ্নের উত্তর যেন নতুনভাবে সামনে এসেছে। কারণ, সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি রেজভি আহমেদ ফরহাদ তাঁর ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন—“আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি। হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে সাজানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে সামিরা ও তার পরিবারসহ অনেকে জড়িত।”
রেজভির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যু ছিল একটি টাকার বিনিময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড। তিনি জানান, সালমান শাহর শাশুড়ি লতিফা হক লুসি ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে এ হত্যার চুক্তি করেছিলেন।
১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, হত্যার আগের রাতে রাজধানীর গুলিস্তানের এক বারে বসে এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন— খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ এবং রেজভি নিজে।
প্রথমে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে আরও ৪ লাখ টাকা এনে দেওয়া হয় এই বলে যে, “কাজের আগে ৬ লাখ, কাজের পরে ৬ লাখ।”
সেই রাতেই প্রস্তুত করা হয় হত্যার সরঞ্জাম— প্লাস্টিক দড়ি, সিরিঞ্জ, ক্লোরোফর্ম এবং একটি রিভলভার।
রেজভির জবানবন্দি অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে সালমান শাহর ইস্কাটনস্থ বাসায় যান ডন, ডেভিড, ফারুক, আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও রেজভি।
ঘুমন্ত সালমানের পাশে তখন ছিলেন তাঁর স্ত্রী সামিরা হক।
প্রথমে সামিরা সালমানের মুখে ক্লোরোফর্ম ঢেলে দেন, যাতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
কিছু সময় পর জ্ঞান ফিরে আসলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
রেজভির ভাষায়—“আজিজ ভাই বলেন, ইনজেকশন পুশ করো।”
ইনজেকশন দেওয়ার পর সালমান শাহ আর সাড়া দেননি।
পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রতীয়মান হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের সেই সকাল থেকে আজ পর্যন্ত সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে চলে নানা জল্পনা–কল্পনা।
বহু তদন্ত কমিটি ও সংস্থা ঘটনাটিকে “অপমৃত্যু” বলে উল্লেখ করলেও, প্রতিবারই মূল রহস্য আড়ালেই রয়ে গেছে।
অবশেষে প্রায় তিন দশক পর মামলাটি “হত্যা মামলা” হিসেবে রূপ নেয়, যেখানে মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
১️⃣ সামিরা হক (সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী)
২️⃣ আজিজ মোহাম্মদ ভাই (প্রযোজক)
৩️⃣ লতিফা হক লুসি (শাশুড়ি)
৪️⃣ খলনায়ক ডন
৫️⃣ ডেভিড
৬️⃣ জাভেদ
৭️⃣ ফারুক
৮️⃣ রুবি (মেফিয়া বিউটি সেন্টার)
৯️⃣ আবদুস সাত্তার
🔟 সাজু
১️⃣১️⃣ রেজভি আহমেদ ফরহাদ
বাংলা চলচ্চিত্রে সালমান শাহ ছিলেন এক যুগান্তকারী প্রতিভা। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো চলচ্চিত্রজগতের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রেম, সাসপেন্স আর রহস্যের সেই নাটকীয় অধ্যায় আজও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অমোচনীয় হয়ে আছে।
লেখক: বিনোদন ডেস্ক
সূত্র: আদালত নথি, তদন্ত জবানবন্দি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন