আজকের তারিখ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৯ রাত | ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপসা সেতুর পূর্ব পাড়ে অবৈধ বালু ব্যবসা তিন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ডিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক | খুলনা

খুলনার রূপসা খানজাহান আলী (রহঃ) সেতুর পূর্ব পাড়ে টোলপ্লাজার দু’পাশে সরকারি রাস্তা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে রমরমা অবৈধ বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় তিন ব্যবসায়ী। প্রভাবশালীর নাম ভাঙিয়ে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে এই ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত বালু ব্যবসায়ী সাগর শেখ খুলনার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে সড়ক ও জনপদের রাস্তার ক্ষতি করে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। একইভাবে সড়কের অপর পাশে জাবুসা এলাকার মেহেদী হাসান ও শামিম অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

এতে করে রূপসা সেতুর দর্শনার্থী, পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি সড়কের ব্যাপক ক্ষতি এবং পরিবেশ দূষণের অভিযোগও উঠেছে।

ডিসি বরাবর গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর গণস্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের জাবুসাসহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের পক্ষে অভিযোগটি দায়ের করেন মো. সিরাজুল ইসলাম

একই সঙ্গে ডাকযোগে অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে—

  • সড়ক ও জনপদ বিভাগ, খুলনা
  • পরিবেশ অধিদপ্তর
  • রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার
  • সহকারী কমিশনার (ভূমি)
  • রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ

অভিযোগের গুরুতর দিক

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অবৈধ বালু ব্যবসার স্বার্থে রূপসা নদী থেকে সরকারি রাস্তা কেটে পাইপ স্থাপন করে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতির শামিল।

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র রূপসা সেতুতে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম হয়। কিন্তু বালুর স্তূপ, ধুলাবালি ও যানজটের কারণে তারা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

কেপিআই সীমানায় ব্যবসা, বাড়ছে ঝুঁকি

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—রূপসা সেতুটি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে চিহ্নিত। নিয়ম অনুযায়ী কেপিআই সীমানার ভেতরে কোনো ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার সুযোগ নেই। অথচ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সেতুর সীমানার মধ্যেই বালুর ব্যবসা চলছে।

এ কারণে সেতু রক্ষায় কেপিআই কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অতীতেও ব্যবস্থা, টেকেনি দীর্ঘদিন

এর আগে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি সেতু রক্ষা বাঁধ ক্ষতি, পরিবেশ দূষণ ও সরকারি রাস্তা কাটার অভিযোগে বালু ব্যবসায়ী শামিমকে পুলিশ হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আটক করলেও ক্ষমতার প্রভাবে তিনি মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান।

পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে নৈহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. আবু সাঈদ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু সরবরাহ বন্ধ করেন। আবার পাইপের মাধ্যমে বালু নেওয়ার চেষ্টা হলে থানা পুলিশ তা বন্ধ করে দেয়। তবে কিছুদিন পর পুনরায় ব্যবসা শুরু হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পায় না কেউ

বর্তমানে সাগর শেখ খুলনার এক প্রভাবশালীর নাম ভাঙিয়ে বুক ফুলিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। একইভাবে ৫ আগস্টের পর থেকে শামিম ও মেহেদী পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি

এলাকাবাসী, সাধারণ পথচারী ও দর্শনার্থীরা—

  • অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ
  • সরকারি রাস্তা ও পরিবেশ রক্ষা
  • কেপিআইভুক্ত রূপসা সেতু নিরাপদ রাখতে
    আইনগত ব্যবস্থা ও উচ্ছেদ অভিযান জোরালোভাবে দাবি করেছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে খুলনার জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার বলেন—

“বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন বাহিনীকে নিয়ে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং অবৈধ বালু ব্যবসা থেকে আদৌ মুক্তি পায় কি না রূপসা সেতু এলাকার মানুষ ।

author

Editor

রূপসা সেতুর পূর্ব পাড়ে অবৈধ বালু ব্যবসা তিন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ডিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

Please Login to comment in the post!
adds

you may also like