- by Editor
- Jan, 02, 2025 18:05
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রামপাল উপজেলার উজড়কুড় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি সাহেব আলী আকুঞ্জী সহ দুই জনের বিরুদ্ধে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগে বাগেরহাট বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৬ এর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ভুক্তভোগী মো. তারিকুল ইসলাম আকুঞ্জী বাদী হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামী করে এ মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য রামপাল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হোসেন। মামলার ধারা- ১৪৩/৪৪৭/৩৭৯/৪২৮/৫০৬(২) দঃ বিঃ।
মামলায় বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী বাদী তারিকুল ইসলাম (৪৫) ৫ বছর পূর্বে তপশীল বর্নিত সম্পত্তিতে মৎস্য ঘের করে গলদা, বাগদা চিংড়ি সহ বিভিন্ন প্রজাতীর সাদা মাছ চাষ করে বাজারে বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ইতিপূর্বে উক্ত মৎস্য ঘেরটি ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগের দোসর ও মামলাবাজ ১নং আসামী সাহেব আলী আকুঞ্জী (৭০) এলাকায় পেশী শক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করে মৎস্য চাষ করতেন। কিন্তু বাদী উক্ত বিষয় না জেনেই সাহেব আলী আকুঞ্জী'র নিকট থেকে নগদ টাকা প্রদান করে মৎস্য ঘেরটির লিজ গ্রহন করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। পরবর্তীতে আসামী সাহেব আলী তপশীল বর্নিত সম্পত্তির মালিকানার বিষয় জানতে পেরে মূল মালিকদের নিকট থেকে পুনরায় লিজের টাকা পরিশোধ করে মৎস্য চাষ করতে থাকেন। ১নং আসামী তাতে রাগন্বিত হয়ে বাদীকে বিভিন্ন সময় নিজে এবং তার সন্ত্রাসী শ্রেনীর লোক দিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি প্রদান করে মৎস্য ঘেরের লিজ ছেড়ে দিতে বলে বাদীকে। যদি মৎস্য ঘেরের লিজ ছেড়ে না দেয় তাহলে তাকে মৎস্য ঘের শান্তিতে করতে দিবে না। এমনকি প্রয়োজনে তারা বিষ প্রয়োগ করে বাদীকে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।
বাদীর মাছ ছাড়া বাবদ প্রচুর অর্থ মৎস্য ঘেরে বিনিয়োগ করার কারনে বাদী নিরুপায় হয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে মৎস্য ঘেরে মাছ চাষ করতে থাকেন। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে ১নং আসামী সাহেব আলী আকুঞ্জী ও ২নং আসামী রফিকুল গাইন মৎস্য ঘেরে লিজ ছেড়ে দিতে বাদীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করে। পরবর্তীতে গত ১৪ মার্চ ভোর আনুমানিক ৫ টায় বাদীর মৎস্য ঘেরে বে-আইনী ভাবে বিলে কেউ না থাকার সুযোগে অনধিকার প্রবেশ করে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে।
যার ফলে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার গলদা ও বাগদা চিংড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতীর প্রায় ১ লাখ টাকার ১০ মন সাদা মাছ ১০টি প্লস্টিকের বস্তা ভরে আসামীগন কাধে করে নিয়ে যায়। বাদী আসামীদের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তারা একপর্যায়ে খুন জখমের ভয়ভীতি দেখায়।
পরে বাদী তার মৎস্য ঘেরে গিয়ে দেখতে পায় ঘেরের পানি থেকে বিষের গন্ধ এবং প্রচুর পরিমান ছোট বড় সাদা মাছ ও ছোট ছোট গলদা এবং বাগদা চিংড়ি মরে ভেসে রয়েছে। পরে বাদীর মৎস্য ঘেরের ভেড়িতে আসামীদের ব্যবহৃত "সিডর" নামক দুইটি বিষের খালি বোতল পড়ে থাকতে দেখে। এছাড়া গত বছর আসামীরা বাদীর মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে ক্ষতি সাধন করে। এই অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত তারিকুল ইসলাম এক হচ্ছে ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ব্র্যাক থেকে ৫ লাখ টাকার লোন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সাহেব আলী আকুঞ্জীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী মামলার বাদী তারিকুল ইসলাম বলেন, আমার ঘেরে সাহেব আলী আকুঞ্জী ভোর ৫ টার দিকে বিষপ্রয়োগ করে। এই সাহেব আলী আকুঞ্জীর যন্ত্রনায় ঝালবাড়িসহ উজড়কুড় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ অখুশি। এই সাহেব আলীর সাধারণ মানুষকে ৪০ বছর ধরে অত্যাচার করে আসছে। ভুক্তভোগী আরও জানান সাহেব আলীর এক জামাই আওয়ামীলীগের উপজেলা চেয়ারম্যান আরেক জামাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ছিলো। এই দুই জামাইয়ের প্রভাবে সরকারি রাস্তা দিয়ে মানুষের গরু পর্যন্ত নিতে দেয়নি। কেউ প্রতিবাদ করলে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গরুর পেট ফুটো করে দিত। সাহেব আলীর জমির পাশে অন্যের যায়গাটাও নিজের বলে দাবি করতো।
এই মামলাবাজ সাহেব আলী আকুঞ্জী নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার জন্য মাসে ৩০ দিন বাগেরহাট আদালতে হাজিরা দেয়। প্রথম আমলে ক্ষমতার দাপটে সন্ত্রাসী বাহিনী ও গুন্ডা লালন-পালন করে এদের মাধ্যমে মানুষের উপর জোরজুলুম করে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছে বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেনএসকল ঘটনায় ভুক্তভোগী ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।