- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৮টি কুকুরছানাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে নিশী রহমান (৪২) নামের এক নারীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯–এর ৭ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। আসামি নিশী রহমান উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর।
ঘটনাটি দেশের গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার ফোনে ঘটনাটিকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও একই নির্দেশ দিলে মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে ঘটনার তদন্তে দুপুরে ঢাকার এনিম্যাল অ্যাকটিভিস্ট কমিটির একটি টিম ঈশ্বরদীতে আসে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৫ দিন আগে উপজেলা আবাসিক কোয়ার্টারের সিঁড়ির নিচে এক মা কুকুর ৮টি ছানা প্রসব করে। কর্মচারীরা নিয়মিত খাবার দিতেন। কিন্তু ১ ডিসেম্বর থেকে মা কুকুরটি ছানাদের না পেয়ে আর্তনাদ করতে থাকে। পরদিন সকালে জানতে পারে—কর্মকর্তা নয়নের শিশু ছেলে আফান জানিয়েছে, তার মা কুকুরছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছেন। আফানের দেখানো পুকুর থেকে মালি জাহাঙ্গীর বস্তাটি উদ্ধার করলে ভিতরে ৮টি মৃত কুকুরছানা পাওয়া যায়। এতে দেশ–বিদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে।
তবে অভিযুক্ত নিশী রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কুকুরটি সিঁড়ির নিচে থাকায় অসুবিধা হতো এবং শিশুর নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি ছানাগুলোকে পুকুরের পাশে একটি সজিনা গাছের গোড়ায় রেখে এসেছিলেন। কেউ পুকুরে ফেলেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে মা কুকুরটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বিশেষ পরিচর্যার আওতায় রাখা হয়েছে।
পাবনা আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম দুলাল জানান, দণ্ডবিধি ৪২৯ ধারায় মূল্যবান গবাদিপশু হত্যা বা ক্ষতিসাধনে দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রাণীকল্যাণ আইনেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা নয়নকে সরকারি কোয়ার্টার খালি করতে নির্দেশ দেন, এবং মঙ্গলবারই তারা কোয়ার্টার ছাড়েন।
আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিশী রহমানকে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের রহিমপুর স্কুলপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।