- by Editor
- Jan, 02, 2025 18:05
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাগেরহাটের মোংলা পৌর শহরে হঠাৎ করে মাদককারবারীদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এজেন্টদের মাধ্যমে সহজেই মাদক পৌঁছে যাচ্ছে সেবীদের হাতে। বিশেষ করে উঠতি বয়সের যুবকরা এতে বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা এলাকার সামাজিক অবক্ষয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। যদিও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী ও কারবারীদের আটক করা হচ্ছে, কিন্তু তা দিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
৭ অক্টোবর গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোংলা থানা পুলিশ দিগরাজ এলাকায় তল্লাশির সময় মাহিন্দ্রা গাড়ি থেকে শফিকুল হাওলাদারের কাছে ৮৮৬ পিস ইয়াবা জব্দ করে। পুলিশ জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও অভিযান চালানো হচ্ছে।
এর আগে, ৪ অক্টোবর আরও তিনজনকে পৃথক অভিযানে আটক করে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ বিক্রেতা, ভ্যানচালক, লোহালকড় বিক্রেতাসহ অনেকেই পেশার আড়ালে খুচরা ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন তারা ১০-২০ পিস ইয়াবা বিক্রি করছে। এমনকি কিছু নারীও বাড়িতে বসে ইয়াবা বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন বাঁশ বিক্রেতা নারগিস জানান, মহিলারা বড় পাইকারদের কাছ থেকে ১০-১৫ পিস ইয়াবা কিনে এনে ১-২ পিস করে বিক্রি করছেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি পিসে ৮০-১০০ টাকা লাভ হচ্ছে। এটি সহজ আয়ের পথ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা আরও ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শহরের বাসিন্দা হাজী আবদুল মান্নান মোল্লা বলেন, “রাস্তা-ঘাটে উঠতি বয়সীদের মাতলামি দেখা যায়, যা সমাজের জন্য লজ্জাজনক ও বিপজ্জনক।”
ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, “খুচরা বিক্রেতারা যুবকদের মাদক সেবনে অভ্যস্ত করে তোলে, পরে চড়া দামে বিক্রি করে। এতে করে যুব সমাজ ধ্বংসের পথে।”
তারা সবাই একমত যে, শুধু থানা পুলিশের অভিযান দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সরাসরি ও নিয়মিত অভিযান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, এবং সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতি রোধ করা যাবে না।
প্রস্তাবনা ও করণীয়ঃ
নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান জরুরি।
গোপন তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বৃদ্ধি: স্থানীয়দের সহায়তায় এজেন্টদের চিহ্নিত করে ধরতে হবে।
সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন: স্কুল, মাদ্রাসা ও যুবকেন্দ্রগুলোতে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা দরকার।
পেশা ভিত্তিক বিকল্প কর্মসংস্থান: যারা খুচরা মাদক বিক্রিতে যুক্ত, তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলে অনেকেই এই পথ থেকে ফিরে আসবে।
নারী কারবারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বাড়িতে বসে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।