- by Editor
- Jan, 15, 2025 10:37
নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার পূর্ব রূপসায় ট্রলারের সঙ্গে পন্টুনের সংঘর্ষে নদীতে পড়ে শেখ মহিদুল হক লিটু (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। রবিবার (৯ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীও নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিখোঁজ শেখ মহিদুল হক লিটু খুলনার রূপসা উপজেলার তালিমপুর গ্রামের মৃত মাহাবুবুর রহমানের ছেলে। তিনি খুলনা নগরীর সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার রাতে দাপ্তরিক কাজ শেষে লিটু পশ্চিম রূপসা থেকে ট্রলারে ওঠেন নিজ বাড়ি পূর্ব রূপসার তিন বটতলা এলাকায় ফেরার উদ্দেশ্যে। নদী পারাপারের সময় ট্রলারটি পূর্ব রূপসা ঘাটে পৌঁছালে হঠাৎ করে সেখানে থাকা পন্টুনের সঙ্গে জোরে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি নদীতে পড়ে যান এবং মুহূর্তেই দৃষ্টির আড়াল হয়ে যান।
স্থানীয়দের দাবি, একই ট্রলারে থাকা এক অজ্ঞাত নারীও নিখোঁজ হয়েছেন। তবে তার নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালালেও নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি। পরে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করে, যা সোমবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন,“ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।”
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে। অনেকে লিখেছেন,“রূপসা ঘাট এখন দুর্নীতি আর নিয়মভঙ্গের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বেপরোয়া চলাচল এখন নিত্যদিনের ঘটনা। প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সঙ্গে অসভ্য আচরণ করে—কখনো গায়েও হাত তোলে। প্রশ্ন হলো, এত সাহস এরা পায় কোথা থেকে? কারা এদের পেছনে ছায়া হয়ে আছে?”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রূপসা ঘাটে চাঁদাবাজি, ঘুষ, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতা চলছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাবে নিয়মবহির্ভূত ট্রলার ও পন্টুন পরিচালনা প্রায় প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
রূপসা নদীতে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা, অবৈধ ট্রলার ও পন্টুন বন্ধ করা এবং ঘাট ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা ও এলাকাবাসী।
রূপসা নদী পারাপারে একের পর এক দুর্ঘটনা প্রমাণ করে—যাত্রী নিরাপত্তা আজ মারাত্মকভাবে উপেক্ষিত। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘাটে নিয়মিত মনিটরিং ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে।