আজকের তারিখ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০১ রাত | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে জনবল সংকট: ঝিমিয়ে পড়েছে মাদক বিরোধী অভিযান


অনলাইন ডেক্সঃ খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে জনবল সংকটের কারনে ঝিমিয়ে পড়েছে মাদক বিরোধী অভিযান। মাত্র ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর। এদের মধ্যে ৪ জনের মামলা দায়ের ও তদন্ত করার ক্ষমতা রয়েছে। ৪ জনের দু’জন মামলার স্বাক্ষী দিতে মাসের অধিক সময় জেলার বাইরে থাকেন। ফলে খুলনার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। জেলা অফিসে জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি খুলনার মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি উপজেলায় থানা সার্কেল অফিস করার দাবি উঠেছে।

খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ১ জন উপ-পরিচালক, ১ জন সুপারইনটেনডেন্ট, ২ জন ইন্সপেক্টর, ২ জন সাব ইন্সপেক্টর, ২ জন অ্যাসিট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর ও ৬ জন কনসটেবল রয়েছেন। মাদকের সরবরাহ, চহিদা ও ক্ষতি হ্রাস এই তিনটি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মধ্যে মাদকের সরবরাহ বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা। চাহিদা হ্রাসে স্কুল-কলেজ ও ওয়ার্ড ভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি। ক্ষতি হ্রাসে মাদকাসক্তদের সু-চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া। এছাড়াও মদ, রেক্টিভাইড ¯প্রীট, ডি-ন্যাচারড ¯প্রীট, মরফিন, প্যাথিডিন বিক্রির লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নসহ মাদক বিরোধী বিভিন্ন কার্যকক্রম পরিচালনা করা। এতগুলো কার্যক্রম স্বল্প সংখ্যক লোকদিয়ে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। জনবল ও পরিবহন সঙ্কটের পাশাপাশি নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে তাদের।

খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পারভীন আখতার জানান মাত্র ৪ জন ইন্সপেক্টর দিয়ে মহানগর ও জেলার ১৭টি থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সামান্য একটি থানার তুলনায় আমাদের পুরো জেলায় জনবল খুবই নগন্য। এছাড়াও সোর্স নিয়োগে যে পরিমান অর্থ আমাদের বরাদ্দ তাতে কোন সোর্সই আমাদের তথ্য দিতে চায় না। এরপরও আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।

অধিদপ্তরের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, একজন সোর্সের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে ফেনসিডিল প্রতি ৩০ টাকা, গাঁজা কেজি প্রতি ৫ হাজার টাকা ও ইয়াবা প্রতি ১০-১৫ টাকার বেশি না দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে অন্যরা সোর্সকে হাত করে ফেলে। পর্যাপ্ত পরিবহন ও নিজস্ব বাহিনী না থাকায় অধিকাংশ অভিযান ব্যর্থ হয়ে যায়। অপরাধীরা টের পেয়ে সটকে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, একাধিক কর্মকর্তার দীর্ঘ দিন যাবৎ বদলী না হওয়ায় তারা এখানে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এ সকল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ব্যবস্থা নিতে পারে না উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এই সিন্ডিকেট চক্রটি শহরের বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ করে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময়ে অভিযানে গিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আবার কেউ কেউ নিজেরাই মাদকে জড়িয়ে পড়েছেন।

এব্যাপারে খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডেপুটি পরিচালক পারভিন আখতার বলেন, কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। আর এসকল অপরাধের জের ধরে সম্প্রতি ৩ জন কর্মকর্তাকে বদলীর সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চলতি সনের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৬শ ৬৭টি অভিযান পরিচালনা করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এর মধ্যে সফলতা পেয়েছে মাত্র ১৭৫টিতে। অর্থাৎ মোট অভিযানে মাত্র ২৬ শতাংশ সফলতা এসেছে। বাকী ৭৪ শতাংশ অভিযানে ব্যার্থ হয়েছে এই অধিদপ্তর। এছাড়াও মাদক বিরোধী প্রচারণামূলক কর্মসূচী পালিত হয়েছে জেলার ৩৮টি পৃথক স্থানে।

বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের এডিশনাল ডিরেক্টর মোঃ আবুল হোসেন বলেন, আমরা সোর্সের মাধ্যমে একটি খবর পাওয়ার পর সেখানে সাথে সাথে অভিযান চালাতে পারিনা। কারণ আমাদের নিজস্ব কোন আর্মস নেই। একটি অভিযান চালাতে গেলে পুলিশ ফোর্স ও ম্যাজিস্ট্রেট পেতে আমাদের সামান্য দেরী হয়। এই সময়ের মধ্যে অনেক অপরাধীরা পালিয়ে যায়। ফলে অভিযানগুলো সফল হয়না। খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দু’জন কর্মকর্তা এসেছেন বগুরা ও রাজশাহী থেকে। মামলার স্বাক্ষী দিতে প্রায় তাদের সংশ্লিষ্ট জেলায় যেতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করাও সম্ভব হয় না। এজন্য দ্রুত প্রতিটি উপজেলা ও থানা ভিত্তিক সার্কেল অফিস ও জনবল বাড়ানো প্রয়োজন।

জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে গত সেপ্টম্বর মাস পর্যন্ত মোট অভিযান ছিল ৬শ ৬৭টি। এর মধ্যে সফল অভিযানে নিয়মিত মামলা হয়েছে ৭৯টি, ভ্রাম্যমান আদালতে মামলা হয়েছে ৯৬টি। গাঁজা উদ্ধার ২৬ কেজি ৬শ ৪ গ্রাম, ফেনসিডিল উদ্ধার ৩শ ৪৮ বোতল, ইয়াবা ২০ হাজার ৫৬৭ পিস, বিদেশী মদ ৫৩ বোতল, হেরোইন ৩ গ্রাম, লিকুইড এ্যালকোহল ৪ কেজি ৫শ গ্রাম, বিয়ার ৩৫৬ পিস, লুপিজেসিক ইনিজেকশন ২টি, আর এস ৬১ লিটার

author

Editor

খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে জনবল সংকট: ঝিমিয়ে পড়েছে মাদক বিরোধী অভিযান

Please Login to comment in the post!
adds

you may also like