আজকের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৭ রাত | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্টারনেট বনাম যুব সমাজ প্রসঙ্গত কিছু কথা


 বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে ইন্টারনেট যেন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে যুব সমাজের মধ্যে ইন্টারনেটের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। একদিকে ইন্টারনেট যেমন জ্ঞান অর্জনের দ্বার উন্মুক্ত করেছে, অন্যদিকে এটি বিভিন্ন সমস্যারও জন্ম দিচ্ছে। তাই বলা যায়, ইন্টারনেটের প্রভাব যুব সমাজের ওপর এক ধরণের দ্বিমুখী প্রভাব ফেলছে।

ইন্টারনেটের ইতিবাচক প্রভাব:

  1. জ্ঞানার্জন ও শিক্ষা: ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুব সমাজ সহজেই বিশ্বের যেকোনো তথ্য জানতে পারছে। অনলাইন কোর্স, ভিডিও লেকচার, ই-বুক ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষা অনেক বেশি সহজ ও সাবলীল হয়েছে।
  2. যোগাযোগ ও সামাজিক সংযোগ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (Facebook, WhatsApp, Instagram ইত্যাদি) যুব সমাজকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত রেখেছে।
  3. চাকরি ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ: অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স বা স্টার্টআপ চালানোর সুযোগ অনেক যুবককে আত্মনির্ভর করেছে।

ইন্টারনেটের নেতিবাচক প্রভাব:

  1. আসক্তি ও সময় অপচয়: অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে অনেক যুবক বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।
  2. মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি: ভার্চুয়াল জগতে ‘পারফেকশন’ দেখার কারণে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত, আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়ছে।
  3. ভুয়া খবর ও গুজব: যুব সমাজ অনেক সময় যাচাই না করেই গুজব বা মিথ্যা তথ্য বিশ্বাস করে, যা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
  4. সাইবার অপরাধ ও নিরাপত্তা: ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতারণা, হ্যাকিং, বুলিং-এর শিকার হচ্ছে অনেকেই।

সমাধান ও করণীয়:

  • ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো।
  • পড়াশোনা ও বাস্তব জীবনের কাজে ইন্টারনেটকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা।
  • পরিবার ও শিক্ষকদের উচিত ইন্টারনেট ব্যবহারে গাইডলাইন দেওয়া।
  • নিজস্ব মূল্যবোধ ও চিন্তাশক্তিকে দৃঢ় রাখা।

উপসংহার:

ইন্টারনেট একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি যেমন উন্নয়নের সহায়ক, তেমনি যদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই যুব সমাজের উচিত ইন্টারনেটকে জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও উন্নয়নের কাজে লাগানো, অন্ধ অনুসরণ নয়।

author

Editor

ইন্টারনেট বনাম যুব সমাজ প্রসঙ্গত কিছু কথা

Please Login to comment in the post!
adds

you may also like