- by Editor
- Jan, 02, 2025 18:05
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেল আহমেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, রিমান্ড শেষে শনিবার আসামি রুবেলকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন আদালত তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে থাকা আততায়ীরা তাকে গুলি করে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি হত্যার অভিযোগে রূপ নেয়। শুরুতে ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে এবং গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে নারাজি দাখিল করলে আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে প্রদান করেন।
বর্তমানে মামলার তদন্ত সিআইডির তত্ত্বাবধানে চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, রুবেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটিত হবে।