আজকের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৭ রাত | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুরাচ্ছে রবির আলো, দুঃসময়ে বাঁতি জ্বালো'


নিজস্ব প্রতিবেদক: দিন-দুপুরেও ঘরের মধ্যে হতাশার আধাঁর। জানালার কপাট দিয়ে যে টুকু আলো প্রবেশ করছে তা যেন আঁধারকে আরো তেতো করে তুলেছে। আলো-আঁধারি ছোট্ট কামরায় চাদর গায়ে বিছানায় শুয়ে আছেন এক জরাজীর্ণ যুবক। বয়স ৪৩ হলেও বার্ধক্য তাকে জড়িয়েছে আষ্টেপৃষ্টে। দুই শিশু সন্তান আর স্ত্রীর একমাত্র ভরসার মানুষটির শরীর জুড়ে এখন রোগের বসবাস। চোখ ঢুকেছে কোটরে। পেশিগুলো শুকিয়েছে অনেক আগেই। শেষ বেলার মলিনতা যেন রবির চোখেমুখে।

বলছিলাম সেই রবির কথা যার আগমণে প্রাণ পেতো বন্ধুদের আড্ডা। জমে উঠতো খেলার মাঠ। যার কথায় একদা স্বপ্ন দেখতো রামনগর-রহিমনগর এলাকার কিশোর-যুবকেরা। যিনি একসময় ফুটবল নিয়ে দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে ছুটতেন সবুজ ঘাসের মাঠে। কখনো তার গ্লাভস পরা হাত গোলবারের বল আটকে উল্লাসের কারণ হতো দর্শকদের। কখনো তার ঠোঁটে চেপে রাখা বাঁশি, হাতে থাকা লাল-হলুদ কার্ড আতঙ্কের কারনও হতো মাঠের খেলোয়ারদের। আবার কখনো ঘরের মাঠের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চার-ছক্কা হাকাতো তার পেশীবহুল বাহু।

তবে সেসব এখন কেবল স্মৃতি। প্রতিনিয়ত দুর্বিষহ যন্ত্রণা নিয়ে ফেলে আসা দিন রোমন্থন করছেন রবিউল ইসলাম৷ লিভার সিরোসিস আক্রান্ত দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঠিক ভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। ডায়াবেটিকস এর প্রভাব শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দূর্বল করে দিয়েছে মারাত্মক ভাবে। তবে ভাঙা শরীর, ভাঙা মন নিয়ে এখনো অটুট আত্মসম্মান আর মর্যাদা বোধ। 

অনন্ত-অসীমের পথে যাত্রার প্রহর গুনতে থাকা রবির পাশে এখন তার স্ত্রী আর রক্তের ২-৪ আত্মীয় ছাড়া কেউ নেই। সাদা-কালো মলাটের স্মৃতির পাতায় থাকা ঘনিষ্ঠরা এখন রবির দীর্ঘশ্বাসের কারণ। ''পৃথিবীটা শুধুই মায়া জাল। চোখের পাতায় ভাসতে থাকা অতীতের পুরোটাই ছিলো ভুল।" জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সময়ের শেষ হিসেবটা কষে এমন উপলব্ধিই ছিলো রবির।

বন্ধু-বান্ধব কিংবা ছোট-বড় ভাই কারো হয়তো ফুরসত মেলেনা রবির শীর্ণ হাতে হাত রাখার। ব্যস্ত জীবনের ইঁদুর দৌড়ে তারা এখন ব্যস্ত। চোখের দেখা আর মুখের কথায় রবির জীবিত দেহ আর সচল হৃদয়ে আশার প্রদীপ জ্বালানোর সময় হয়তো নেই তাদের। 

হয়তো তাদের অপেক্ষা বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার। হয়তো ব্যস্ততা থেকে একচিমটি সময় তারা ছুটি নিয়ে আসবেন জানাজা-দাফনের দিন। তবে সেদিন আর রবির চোখে আলো থাকবে না। সেদিন রবির কোনপ্রকার সহমর্মিতার, সহানুভূতির প্রয়োজন হবে না। কারণ তখন রবি অস্ত যাবে, সকলের আড়ালে প্রস্তুতি নেবে আরেক নতুন সকালের।

author

Editor

ফুরাচ্ছে রবির আলো, দুঃসময়ে বাঁতি জ্বালো'

Please Login to comment in the post!
adds

you may also like