- by Editor
- Jan, 03, 2025 07:49
নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের তিনজন উপদেষ্টা ভুল পথে পরিচালিত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার দাবি, এ তিন উপদেষ্টার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে। তাই তাদের অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে আটদলীয় জোটের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের পর করণীয় নির্ধারণে আট দল বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠকে বসে এবং শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়।
ডা. তাহের বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিরপেক্ষ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভাষণে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে তিনি দাবি করেন। “এই সরকার একটি দলের প্রতি অনুগত। যেনতেনভাবে সেই দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য নির্বাচন আয়োজনের দিকে এগোচ্ছে,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশের জন্য “গভীর অন্ধকার অপেক্ষা করছে” বলে সতর্ক করে ডা. তাহের অভিযোগ করেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায়ও একটি দলের সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “পুরো জাতি চেয়েছিল গণভোট আলাদা হোক; কিন্তু একটি বড় দলের প্রয়োজনে বিষয়টি একত্র করা হয়েছে, কারণ বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তারা জনমতের মুখোমুখি হয়েছে।”
সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি জানান, হ্যাঁ/না ভোটের প্যাকেজকে চার ভাগে ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যা মানুষের জন্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে কঠিন করে তুলবে। ডা. তাহেরের অভিযোগ, “এটি প্রচলিত রীতি নয়। সুস্পষ্টভাবে একটি দলের নোট অব ডিসেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্যই এ সিদ্ধান্ত।”
বাংলাদেশের ৫৪ বছরে “শাসক বদলেছে, কিন্তু শোষণ বদলায়নি” মন্তব্য করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই সংস্কারের বিরোধিতা করে আসছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বক্তব্য নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম তিনি কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। কিন্তু একটি দলের সঙ্গে সমঝোতা করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আট দল দাবি করে, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ, গণভোটে পরিবর্তিত কাঠামো বাতিল এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।