- by Editor
- Jan, 06, 2025 11:06
নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার বটিয়াঘাটা থানায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত ‘মস্তকবিহীন সালেহা’ হত্যা মামলার পলাতক আসামি সিজার মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে Police Bureau of Investigation (পিবিআই) খুলনা জেলা ইউনিট। দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় পলাতক থাকার পর রোববার (১ মার্চ) রাতে ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বটিয়াঘাটা থানার মামলা নং-০৯, তারিখ ২০/০৮/২০২৫, দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়েরকৃত মামলাটির তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত সালেহা বেগম ও প্রধান আসামি লালন গাজীর বাড়ি একই গ্রামে। ভিকটিম পূর্বে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পর লালন গাজীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তদন্তে জানা যায়, লালন গাজী ইন্দুরকানী থানার চারাখালী এলাকায় ভিকটিমকে স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় রেখে বসবাস করতেন। তবে পূর্বে বিবাহিত হওয়ায় তিনি নিয়মিত সেখানে থাকতেন না। এ সময় কৌশলে সালেহা বেগমের ব্যাংকে সঞ্চিত আনুমানিক ১৫-১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ভিকটিম বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯ আগস্ট ২০২৫ সন্ধ্যায় লালন গাজী ও তার মামাতো ভাই সিজার মোল্লা খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামে নিয়ে গিয়ে সালেহা বেগমকে হত্যা করে। পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহের মাথা দ্বিখণ্ডিত করে আলাদা করা হয় এবং মাথা, দেহাংশ, পরিধেয় বস্ত্র, মোবাইল ফোন ও হত্যায় ব্যবহৃত আলামত নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লালন গাজীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তবে সিজার মোল্লা আত্মগোপনে চলে যায়। পিবিআই প্রধান মো. মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই খুলনা জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা’র নেতৃত্বে বিশেষ দল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।
পিবিআই জানায়, সিজার মোল্লা অত্যন্ত কৌশলীভাবে আত্মগোপন করে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। দীর্ঘ নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার পর অবশেষে তাকে মগবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাসুয়া উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতে সোপর্দ করলে সিজার মোল্লা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা
তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা: রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, পিবিআই খুলনা জেলা।
তদন্তকারী কর্মকর্তা: এসআই (নিঃ) রেজোয়ান, পিবিআই, খুলনা।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা